ফ্যাটি লিভার রোগ কী?
লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়াকে ফ্যাটি লিভার রোগ বলা হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিক পরিভাষায় অ-অ্যালকোহলজনিত ফ্যাটি লিভারকে MASLD (Metabolic Dysfunction-Associated Steatotic Liver Disease) বলা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক যত্ন না নিলে এটি লিভার প্রদাহ (NASH), লিভার ফাইব্রোসিস বা পরবর্তীতে সিরোসিসে রূপ নিতে পারে।
প্রধান কারণ ও ঝুঁকি
লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমতে সাহায্য করে এমন কয়েকটি কারণ:
- ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও ডায়াবেটিস: রক্তে অতিরিক্ত শর্করা থাকলে লিভার তা চর্বিতে রূপান্তর করে।
- পেটের অতিরিক্ত মেদ ও স্থূলতা: কোমরের পরিধি বেড়ে যাওয়া ভিসেরাল ফ্যাট বাড়ায়।
- রক্তে উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড: বাজে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের আধিক্য।
- কায়িক পরিশ্রমের অভাব: অলস জীবনযাপন ও শারীরিক অনুশীলনের অভাব।
প্রাথমিক লক্ষণ ও রোগ নির্ণয়
অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই ফ্যাটি লিভারের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। তবে কিছু ক্ষেত্রে পেটের ডানদিকের উপরিভাগে হালকা ভার অনুভূতি বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।
সঠিক রোগ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা:
- পেটের আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (USG of Whole Abdomen): লিভারের সাইজ ও ফ্যাট গ্রেড (গ্রেড ১ থেকে ৩) পরিমাপ করে।
- লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT): রক্তে SGPT (ALT), SGOT (AST) এনজাইমের মাত্রা যাচাই করা।
- ফাইব্রোস্ক্যান (FibroScan): বিনা রক্তপাতে লিভারের ফাইব্রোসিস ও ফ্যাটের সঠিক পরিমাপ দেয়।
জীবনযাত্রা পরিবর্তন ও খাদ্য তালিকা
ফ্যাটি লিভার কাটাতে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে যে পরিবর্তন দরকার:
- ওজন নিয়ন্ত্রণ: শরীরের মোট ওজনের ৫% থেকে ১০% কমালে লিভারের চর্বি দ্রুত হ্রাস পায়।
- শাকসবজি ও ফাইবার যুক্ত খাবার: সবুজ শাকসবজি, ওটস, ফলমূল ও পর্যাপ্ত পানি পান করা।
- বর্জনীয় খাবার: মিষ্টি, কোল্ড ড্রিংকস, ফাস্টফুড, প্রসেসড ফুড এবং অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার।